স্বল্প প্রাপ্তিতে অসীম তুষ্টি: চা শ্রমিকদের অমলিন হাসির নেপথ্যে
স্বল্প প্রাপ্তিতে অসীম তুষ্টি: চা শ্রমিকদের অমলিন হাসির নেপথ্যে
নিজস্ব প্রতিবেদক: মো:ফাহিদুল ইসলাম রিহাত
সবুজ গালিচায় মোড়ানো পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে যখন ভোরের সূর্য উঁকি দেয়, তখনই শুরু হয় তাদের জীবনযুদ্ধ। পিঠে ঝুড়ি আর দু’হাতে নিপুণ ছন্দে পাতা তোলা-এই তাদের রোজনামচা। আমরা যাদের 'চা শ্রমিক' বলে চিনি, দেশের অর্থনীতিতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য, তাদের জীবনের সমীকরণটি বেশ অদ্ভুত। একদিকে চরম অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, অন্যদিকে মুখে এক চিলতে অমলিন হাসি।
বঞ্চনার আড়ালে ঢাকা পড়া জীবন চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির অংকটা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। এক কেজি চাল বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের সাথে তাদের আয়ের কোনো সংগতি নেই বললেই চলে। হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে মাস শেষে যা পকেটে আসে, তা দিয়ে ঠিকমতো ডাল-ভাতের সংস্থান করাও দায়। জরাজীর্ণ ঘর, চিকিৎসার অভাব আর শিক্ষার সীমাবদ্ধতা তাদের নিত্যসঙ্গী।
একটি কাপের চায়ে আমরা যখন চুমুক দেই, তখন যেন মনে রাখি সেই তৃপ্তির পেছনে রয়েছে হাজারো শ্রমিকের ঘাম আর বঞ্চনা। চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা আজ সময়ের দাবি। তাদের মুখে লেগে থাকা এই অকৃত্রিম হাসিটুকু ধরে রাখতে রাষ্ট্র ও বাগান মালিকদের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। যাতে আগামীর দিনগুলোতে তাদের হাসি কেবল সহনশীলতার প্রতীক না হয়ে প্রকৃত সুখের প্রতিফলন হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স